



আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তাঁদের প্রজন্ম আমাদেরকে একটি স্বাধীন ভূ-খণ্ড দিয়েছেন। আমরা তাঁদের কী দিয়েছি? এতদিন আমরা কিছুই দিতে পারিনি। এখন সময় ও সুযোগ এসেছে একটি রাজাকারমুক্ত দেশ তাঁদের উপহার দেবার। কেবল এইভাবেই আমরা তাঁদের ঋণ শোধ করতে পারি। মাত্র কিছুদিন আগেও আমাদের প্রজন্মকে যারা ফেসবুক প্রজন্ম, ঘরকুনো, অন্তর্মুখি প্রজন্ম বলেছেন, এই আন্দোলনের ফলে তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। আমরা সারা পৃথিবীকে জানিয়ে দিতে পেরেছি লড়াই আমাদের রক্তে। প্রয়োজনে আমরা জীবন বাজি রেখে, নাওয়া খাওয়া ভুলে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারি। এই আন্দোলনে আমরা রাজনীতিবিদদের বিশ্বাস করছি না। রাজনীতিবিদরা বিগত ৪২ বছর ধরে তাদের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ভাঙ্গার কাজটিই করেছেন। ফলে, আজকে যখন তারা আমাদের আন্দোলনে এসে সংহতি জানান, তখন আমাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। কেননা তাদের ব্যাপারে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা ভালো না। তাদের প্রত্যেকের রয়েছে ৪২ বছরের বিশ্বাসভঙ্গের ইতিহাস। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ও দেখেছি সাধারন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে তারা যেকোনোভাবে ভণ্ডুল করতে চায়। আজকে আমরা যারা এখানে আছি এদের ভেতর অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ছাত্র। আমাদের দ্বায়িত্ব হবে এই মঞ্চ রাজনীতিবিদমুক্ত রাখা। এটা জনতার আন্দোলন। আমরা দেশের সাধারন মানুষ। আমরা আমাদের অধিকার বুঝে নেবো। আর একটা ব্যাপার হলো আমরা বাংলার সাধারন মানুষ ধর্মান্ধ নই, ধার্মিক। জামায়াত-শিবির চক্র আমাদের দেশের সাধারন মুসলমানদের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। আজকে অনেক মানুষ দাড়ি টুপি দেখলে জামাত শিবির বলে সন্দেহ করে। একজন নীরিহ ভালোমানুষ নামাজি মুসলমান আজ ওদের কারনে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। কিন্তু আমরা জানি আমার যে ভাইটা নামাজ পড়ে তার দেশপ্রেম আমার চেয়ে কম না। আমার যে চাচা যুদ্ধ করেছেন তিনিও পাঞ্জাবি-পাজামা পরেন, আমার প্রতিবেশি সালাম সাহেব দেশের জন্য জায়নামাজে বসে দোয়া করেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি মাদ্রাসার ছাত্ররা আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, সংহতি জানিয়েছেন। দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত হয় কিশোরগঞ্জের শোলকিয়ায়। শোলাকিয়ার ইমাম আল্লামা ফরিদউদ্দিন মাসউদের নেতৃত্বে গতকাল সোমবার বেলা পৌনে দুইটায় শতাধিক মওলানার একটি দল শাহবাগ এসে এ আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে গেছেন। ফলে, ধর্ম নিয়ে জামাতের রাজনীতি করার দিনও প্রায় শেষ। প্রতিটি দেশপ্রেমিক ধার্মিক মুসলমানের উচিত আমাদের আন্দোলনকে সক্রিয় সহয়তা করা। এ আন্দোলন দেশের ষোল কোটি মানুষের আন্দোলন। এখানকার সাফল্য ভবিষ্যত সময়ের যেকোন অন্যায়, অনাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রথম পদপে। আমরা জিতবোই।

0 comments:
Post a Comment